আদালত থেকে রিমান্ডে নেওয়ার পথে মমতাজের দিকে ডিম ছোড়া


বাগেরহাট নিউজ ২৪ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৭, ২০২৫, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন /
আদালত থেকে রিমান্ডে নেওয়ার পথে মমতাজের দিকে ডিম ছোড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জে দুটি পৃথক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে এক হত্যা মামলার শুনানি শেষে তাঁকে হরিরামপুর থানায় নেওয়া হয়, যেখানে আরেক মামলার রিমান্ড কার্যকর করা হবে।

মানিকগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের জানান, সিঙ্গাইর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার শুনানির জন্য আজ মমতাজ বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশে হরিরামপুর থানার মামলায় আগে নির্ধারিত দুই দিনের রিমান্ড কার্যকরের জন্য তাঁকে থানায় পাঠানো হয়।

আদালতে হাজিরার সময় আবারও মমতাজকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর ডিম ছুড়ে মারেন এবং নানা ধরনের স্লোগান দেন। যদিও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল, তবুও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। দুপুর ১টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে হরিরামপুর থানায় নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর–হরিরামপুর) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সিঙ্গাইর থানায় হত্যা মামলা এবং হরিরামপুর থানায় হামলা, মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে হাজির হলে বিচারক হত্যাকাণ্ডের মামলায় চার দিন এবং ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিনই তাঁকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে হত্যা মামলায় নিয়মিত হাজিরার জন্য মমতাজ বেগমকে মানিকগঞ্জ আদালতে আনা হয়। তাঁকে প্রথমে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী হরিরামপুর থানায় দায়ের হওয়া হামলা, মারধর ও ভাঙচুর মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং তাঁকে থানায় নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সিঙ্গাইর থানার ওসি তৌফিক আজম জানান, পূর্বনির্ধারিত শুনানির জন্যই মমতাজ বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে তাঁকে হরিরামপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে হত্যা মামলায় চার দিনের এবং হামলা-ভাঙচুর মামলায় দুই দিনের রিমান্ড কার্যকর করা হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই আসামিকে হরিরামপুর থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

হত্যা মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হরতালের পক্ষে মানিকগঞ্জ-সিঙ্গাইর-হেমায়েতপুর সড়কের গোবিন্দল নতুন বাজার এলাকায় ইসলামি সমমনা দলগুলোর নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ চারজন নিহত হন। নিহত অন্যরা হলেন—মাওলানা নাসির উদ্দিন, আলমগীর হোসেন এবং শাহ আলম। দীর্ঘ সময় পর, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নাজিম উদ্দিনের বাবা মো. মজনু মোল্লা সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মমতাজ বেগমকে প্রধান আসামি করা হয় এবং আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের আরও ১০৮ নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ৩০ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত একটি মিলাদ মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জের বয়ড়া গ্রামে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানের বাড়িতে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন মামলা দায়ের করেন, যেখানে মমতাজ বেগমকে প্রধান আসামি করা হয় এবং আওয়ামী লীগের আরও ৮৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।